প্রসেসর (CPU) কি? Core ও জেনারেশন কি? Intel vs AMD, কোনটি কিনবেন

প্রসেসর (CPU) কি

আমরা যখনই ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটার কিনতে চাই তখনই দোকানদার আমাদের বলেন এই প্রসেসর টি নিন এটি 6th জেনারেশন duel core ( ডুয়েল কোর) প্রসেসর , এই ল্যাপটপে 7th জেনারেশন i3 প্রসেসর আছে, ইত্যাদি বলে থাকেন। তাই আমাদেরও জেনে নেওয়া উচিত আসলে সিপিইউ (CPU অথবা processor) core কি? এবং সেইসঙ্গে জেনে নেবো জেনারেশন ও core কি? আসুন তাহলে জেনে নিই সমস্ত তথ্য । যার ফলে পরবর্তী সময় কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ কিনতে গেলে আপনি নিজেই বেছে নিতে পারবেন কোনটি আপনার জন্য ভালো।


প্রসেসর কি (What is a processor?)

Processor অথবা CPU (central processing Unit) এই দুটি জিনিসই একই। শুধুমাত্র আলাদা আলাদা নাম আর অন্য কোন পার্থক্য নেই।

প্রসেসর (CPU)

আসলে কম্পিউটারের সমস্ত কাজ প্রসেসিং করে এর জন্য কেউ প্রসেসর বলে। এটি সম্পূর্ণ কম্পিউটারে প্রসেসিং করে তাই একে সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট বলা হয়, সংক্ষেপে সিপিইউ (CPU)।


প্রসেসর কি কাজ করে?

প্রসেসর(CPU) এর নামের মধ্যেই লেখা আছে কে এটি প্রসেসিং করে। অর্থাৎ আপনি যখন কোনো ইনপুট দেন কম্পিউটারে এবং এই ইনপুট কে প্রসেসিং করে আপনাকে আউপুট প্রদান করে। এটিই হলো প্রসেসর এর কাজ।

উদাহরণ হিসেবে আপনি যদি কম্পিউটারের chrome brower অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়ারের অপর ক্লিক করেন। তাহলে ওটি হলো আপনার ইনপুট।

এবং এই ইনপুট টি প্রসেসর এর দ্বারা প্রসেসিং হবে এবং ওই ইনপুট এর আউটপুট হিসেবে Chrome brower টি open হয়ে যাবে।

আরো একটি উদাহরণ হলো যখন আপনি কোনো ভিডিও চালানোর জন্য ক্লিক (input দেন) করেন । এবং ওই ভিডিও টি প্রসেসিং হয়ে আউটপুট হিসেবে ভিডিও টি চলতে থাকে।


Processor কোথায় লাগানো থাকে কম্পিউটারের মধ্যে ?

অনেকেই কম্পিউটার ক্যাবিনেট কে CPU বলে কিন্তু ওটি আসলে সিপিইউ নয়। সচরাচর ভাবে আমরা বলতে পারি ওটি সিপিইউ কিন্তু আসলে সিপিইউ ওই বাক্স এর ভেতরে motherboard এ লাগানো থাকে।

ল্যাপটপ এর ভেতরে ও CPU লাগানো থাকে এবং ওই সিপিইউ এর পাশেই ফ্যান থাকে যাতে CPU এ উৎপন্ন heat কে বাইরে বের করতে পারে। এতে CPU ঠান্ডা হয় এবং ভালো ভাবে কাজ করে ।


প্রসেসরের জেনারেশন কি? (What is processor Generation?)

প্রসেসর বানানোর জন্য কোটি কোটি ট্রানজিস্টর (transistor) ব্যাবহার করা হয়।

এবং ওই ট্রানজিস্টর খুবই ছোট হয় যার আকার 30 nanometre এরকম size এর।

বর্তমানে intel কোম্পানির প্রসেসর 14 nanometre ট্রানজস্টর দিয়ে বানানো।

এবং এই ট্রানজিস্টরের আকার যত ছোট হবে তত কম ইলেকট্রিক power নেবে CPU সেইসঙ্গে CPU কম গরম হবে।

প্রতিবছর অথবা 2 বছরের মধ্যে intel কোম্পানি নতুন ট্রানজিস্টর বানিয়ে ফেলে যা আগের ট্রানজিস্টরের তুলনায় অনেক ছোট।

এবং ওই ট্রানজিস্টর দিয়ে বানানো প্রসেসর হলো সর্বশেষ জেনারেশন এর প্রসেসর।

প্রসেসরের জেনারেশন যত পুরনো হবে অর্থাৎ আগের বানানো প্রসেসর হবে, সেখানে ওই পুরনো প্রসেসর অনেক বেশি ইলেকট্রিক power নেবে সেই সঙ্গে গরম বেশি হবে নতুন জেনারেশন এর তুলনায়।

এবং নতুন জেনারেশন এর ল্যাপটপ এর স্পীড বেশি হয় পুরনো এর তুলনায়।


নতুন জেনারেশন এর প্রসেসর এর সুবিধা কি?

নতুন জেনারেশন এর প্রসেসর ব্যাবহার করলে আপনার ল্যাপটপ বেশি সময় ধরে চলতে পারবে। কারণ এতে ব্যাটারি এর power কম নেবে সেই সঙ্গে প্রসেসর কম গরম হবে। এতে ল্যাপটপ গরম হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা কম।

নতুন জেনারেশন এর প্রসেসর এর স্পীড বেশি হয়।

ল্যাপটপ এর ব্যাটারি এর জীবন বেড়ে যাবে কারণ বার বার চার্জ দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এতে ব্যাটারি লাইফ বেশি হবে।

সেই সঙ্গে প্রসেসর খুব গরম হলে কাজ ঠিক ভাবে হয় না। হ্যাং করে। এই সমস্যাও কিছুটা দূরে হবে।

পুরনো জেনারেশন এর ল্যাপটপ কিংবা কম্পিউটার কিছুটা ধীরে চলে।

উদাহরণ হিসেবে i3,i5,i7 ,i9 এভাবেই প্রসেসর ইনটেল কোম্পানি বানিয়েছে।

এর মধ্যে i3 হলো সব থেকে slow এবং i9 হলো সব থেকে দ্রুত।

কিন্তুু আপনি যদি 1st generation এর i5 processor এর সঙ্গে 5th generation এর i3 ব্যাবহার করেন, তাহলে i3 বেশি দ্রুত হবে i5 এর তুলনায়। কারণ i3 অনেক নতুন জেনারেশনের তাই স্পীড বেশি হবে।

তাই নতুন নতুন জেনারেশন (প্রজন্ম) প্রসেসর এর স্পীড বৃদ্ধি পায়।


What is Core in processor?( প্রসেসর এর মধ্যে কোর কি?)

একদম সহজ ভাষাতে বোঝানোর জন্য একটি উদাহরন দিচ্ছি।

আমরা single core, duel core, quad core, octa core এরকম core এর নাম শুনছি।

এখানে

  1. Single core এর মানে হলো একটি কোর আছে প্রসেসরের মধ্যে।
  2. Duel core এর মানে হলো দুটি কোর আছে প্রসসর এর মধ্যে
  3. quad Core এর মানে হলো চারটি কোর আছে প্রসেসর এর মধ্যে
  4. Octa Core এর মানে হলো ৮ টি কোর আছে প্রসেসর এর মধ্যে।

এখন প্রশ্ন হলো এই core গুলির কাজ কি?

ধরুন আপনি কোনো কাজ করছেন কম্পিউটারে অথবা ল্যাপটপ এ।

এবং আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপে সিঙ্গেল কোর আছে। অর্থাৎ আপনি যখন কোনো কাজ করবেন তখন ওই সমস্ত কাজ গুলো ওই একটি core এর দ্বারা সম্পন্ন হবে।

যদি আপনি duel core প্রসেসর ব্যাবহার করেন তাহলে যেকোনো কাজ দুটি core এর দ্বারা সম্পন্ন হবে। তাই duel core সিঙ্গেল কোর প্রসেসর এর তুলনায় খুবই দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করবে।

আবার আপনার কম্পিউটারে যদি কোয়াড কোর (quad core) CPU থাকে, তাহলে যেকোনো কাজ ৪ টি কোর এর দ্বারা সম্পন্ন হবে। তাই quad কোর CPU সিঙ্গেল কোর CPU এর তুলনায় ৪ গুন বেশি দ্রুত কাজ করবে।

এবং এভাবেই octa core সিপিইউ যেকোনো কাজ ৮ টি কোরের মাধ্যমে করে থাকে। তাই কোর যত বেশি হবে প্রসেসিং ক্ষমতা তত বেশি।

আর প্রসেসিং ক্ষমতা বেশি হলে আমরা যেকোনো কাজ খুব কম সময়ের মধ্যে করতে পারি।


কোন প্রসেসরে কত core থাকে?

প্রসেসর মাত্রই এর মধ্যে এক বা একাধিক কোর থাকে।

দুটি কোম্পানি এর প্রসেসর মার্কেটে দেখতে পাওয়া যায়। ইনটেল(Intel) এবং AMD। তাই দুটি কোম্পানি এর প্রসেসর এর নাম সম্পূর্ণ আলাদা।

তাই আমরা intel কোম্পানি এর কিছু নাম করা বর্তমান প্রসেসর এর নাম এবং এই প্রসেসরের মধ্যে কতগুলি কোর আছে তা জেনে নেওয়া চেষ্টা করবো।

  • Intel Pentium : পেন্টিয়াম নামের অনেক প্রসেসর ই মার্কেট এ আছে। যার বেশিরভাগই Single core, এবং কিছু প্রসেসর আছে যা duel core।
  • Intel core 2 : এই প্রসেসর এর মধ্যে 1,2 অথবা 4 টে কোর ও থাকতে পারে। তাই কেনার আগে দেখে নেওয়া উচিত।
  • Core i3: ল্যাপটপে ব্যবহার করা প্রসেসর এর মধ্যে 2 টি কোর থাকে এবং এর সঙ্গে হাইপার্থ্রেডিং(hyper threading) করা থাকে। Hyperthreding এর অর্থ হলো যদি কোনো প্রসেসর এ হাইপার্থ্রিডিং করা থাকে তার মানে ওই CPu তে যদি 2 টি core থাকে তাহলে কম্পিউটার ওটাকে 4 টি ভাববে। এবং কম্পিউটারে ব্যবহৃত সিপিইউ তে 4 টি core থাকে।
  • Core i5 : ল্যাপটপে ব্যবহৃত i5 প্রসেসর এ 2 টি কোর ও hyperthreding করা থাকে। কম্পিউটারে ব্যবহৃত i5 এ 4 টি কোর থাকে।
  • Core i7 : ল্যাপটপে 4 টি কোর ও hyperthreding। কম্পিউটারে 8 core থাকে।
  • Core i9 : এর মধ্যে 6 থেকে 8 টি কোর থাকে।

মাল্টিটাস্কিং কি (what is multitasking)?

আমরা যখন কম্পিউটার কোনো কাজ করি তখন 1টি কোর একসময়ে একটি কাজ করতে সক্ষম।

কিন্তুু আপনি যদি 100 টি কাজ একসঙ্গে করেন সেক্ষেত্রে একটি কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর পরের কাজটি হবে।

ধরুন আপনি গান শুনবেন এর সঙ্গে অন্যান্য অনেক কাজ করবেন। তাহলে তো গান শুনতে গেলে অন্য কাজ হবেই না। আর এর জন্যই প্রসেসরের মধ্যে multitasking এর সুবিধা থাকে। এর ফলে আপনি যা যা কাজ করবেন সব কিছুই একসঙ্গে হবে।

অর্থাৎ গান শুনতে শুনতে অনেক কাজই করতে পারবেন।

কিন্তুু কিভাবে multitasking কাজ করে কম্পিউটার এর প্রসেসর?

multitasking করার জন্য প্রসেসর , একটি কাজকে কিছুক্ষন করে অন্য কাজ করা শুরু করে দেয়, আবার অন্য কাজ টি কিছুক্ষন করে আবার অন্য কাজ করা শুরু করে।

এতে সমস্ত কাজই চলতে থাকে কোনো বাধা ছাড়া। আমরা যখন multitasking কাজ করি, তখন প্রতিটা কাজই একটু ধীরে ধীরে হয়।

অনেকের মধ্যে প্রশ্ন আসতেই পারে, যদি একটি কাজ ছেড়ে অন্য কাজ করা শুরু করে তাহলে গান শোনার সময় গানটি বন্ধ হয়না কেনো?

এর কারণ হলো, প্রসেসর কয়েক মিলি সেকেন্ড এর মধ্যেই একটি কাজ থেকে অন্য কাজ করা শুরু করে দেয়। যার ফলে আমরা বুঝতে পারিনা।

কিন্তুু একসঙ্গে অনেক কাজ করতে দিলে, আপনি বুঝতে পারবেন, সময়টি অনেকটা বেশী লাগছে।


Intel ও AMD কি?

ইনটেল করপোরেশন হলো একটি আমেরিকান মাল্টিন্যাশনাল company। কোম্পানি এর হেডকোয়ার্টার্স Santa Clara, California টে অবস্থিত। এই কোম্পানি মূলত প্রসেসর বানানোর জন্যই বিখ্যাত। এছাড়াও graphics card, mother board ইত্যাদি কম্পিউটার সমন্ধীত জিনিসপত্র বানিয়ে থাকে।

AMD এর পুরো নাম হলো advanced micro devices । এটিও আমেরিকান মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি। কোম্পানির হেডকোয়ার্টার্স Santa Clara, California তে অবস্থিত।

দুটো কোম্পানীই কম্পিউটার প্রসেসর ম্যানুফ্যাকারিং করে। কিন্তুু intel এর প্রসেসর বেশি পছন্দের।


কেনো Intel এর প্রসেসর ভালো?

ইনটেল কোম্পানি এর প্রসেসর ভালো কারণ এই কোম্পানি এর প্রসেসর বেশি দ্রুত এবং কম ইলেকট্রিক power নেয় সেইসঙ্গে কম গরম হয়।

এর তুলনায় AMD একটু বেশি power নেয় এবং বেশি heat হয়।


Intel এবং AMD এর মধ্যে পার্থক্য কি?

  • Intel: কম power নেয় , কম heat হয়, perfomace ভালো কিন্তু দাম বেশি।
  • AMD একটু বেশি power নেয়, বেশি গরম হয়, দাম কম।

ইনটেল ও AMD এর মধ্যে কোনটি কিনবেন?

ইনটেল প্রসেসর যে AMD এর তুলনায় ভালো তা আপনি বুঝতে পেরেছেন। কিন্তুু ইনটেল এর প্রসেসর এর দাম তুলনামূলক ভাবে অনেকটাই বেশি AMD এর তুলনায়।

যদি আপনার বাজেট 20 হাজার থেকে 25 হাজারের মধ্যে থাকে। এবং মোটামুটি অফিস এর কাজ ও অন্যান্য অনলাইনে কাজ করার জন্য ল্যাপটপ কিনতে চান তাহলে AMD প্রসেসর কেনাই ভালো। যদি আপনি ল্যাপটপ এ AMD ব্যাবহার করেন তাহলে ব্যাটারি তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখতে পাবেন। কম্পিউটারে ব্যাবহার করলে এরকম তো কোনো সমস্যাই নেই। কারণ কম্পিউটার সরাসরি ইলেকট্রিক power এ চলে।

20 থেকে 25 হাজার এর মধ্যে ল্যাপটপ অথবা কিনলে তার মধ্যে যদি ইনটেল প্রসেসর থাকে তাহলে ওই কম্পিউটার প্রচুর হ্যাং করতে পারে। যদি আপনি একসঙ্গে বেশি কোনো কাজ করতে থাকেন।

তাই 20 থেকে 25 হাজার এ AMD নেওয়াই ভালো।

30 থেকে 40 হাজার বাজেট: যদি বাজেট 30 থেকে 40 হাজার হয় তাহলে চেষ্টা করবেন ইনটেল নেওয়ার জন্য। সাধারণ কাজের জন্য কিম্বা এর থেকেও ভারী কাজ করার জন্য 30 থেকে 40 হাজার এ প্রায় সমস্ত রকম কাজ করা সম্ভব।

আর যারা গেম খেলার জন্য ল্যাপটপ কিনতে চান ওনাদের জন্য গেমিং ল্যাপটপ দেখে কিনতে পারেন। গেমিং ল্যাপটপ এ AMD অথবা intel এর কোনো CPU থাকলেই চলবে। নির্ভর করবে দামের অপর। যদিও AMD তে ব্যাটারি ব্যাকআপ এর সমস্যা দেখা যেতে পারে। কম্পিউটার হলে কোনো ক্ষতি নেই।

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *