ক্লাউড গেমিং কি? Cloud কম্পিউটিং vs Gaming

ক্লাউড গেমিং কি_ ক্লাউড কম্পিউটিং vs ক্লাউড গেমিং

ক্লাউড গেমিং এটি খুবই একটি নাম যা শুনছেন হয়তো কিন্তু ক্লাউড গেমিং কি ? (What is cloud gaming) এরকম প্রশ্ন আসতেই পারে। এছাড়াও আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে ক্লাউড গেমিং ও ক্লাউড কম্পিউটিং এর মধ্যে পার্থক্য কি ? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাবেন এই আর্টিকেলটি পড়ে।

ক্লাউড গেমিং কি? (What is Cloud Gaming?)

ক্লাউড গেমিং হলো একপ্রকারের ক্লাউড কম্পিউটিং সার্ভিস, ক্লাউড কম্পিউটিং সার্ভারে গেমটি খেলতে পারবেন ইন্টারনেটের মাধ্যমে , নিজের কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ব্যবহার না করেই।

উদাহরণ: ধরুন আপনার কম্পিউটারটি গেম খেলার জন্য উপযুক্ত নয়। তাই আপনি গেম খেলতে পারবেন না আপনার কম্পিউটারে। কিন্তু ক্লাউড কম্পিউটিং এর মাধ্যমে খেলা সম্ভব। এটিকে ক্লাউড গেমিং (Cloud Gaming) বলা হয়।

Cloud Gaming কিভাবে কাজ করে?

আপনার কম্পিউটারে পর্যাপ্ত RAM ও ভালো প্রসেসর (Processor) নেই , তাই বড়ো বড়ো গেম খেলা সম্ভব নয়। কিন্তু ইন্টারনেটের সংঙ্গে যুক্ত থাকা কোনো কম্পিউটারে (যা সার্ভার নাম পরিচিত) গেম ইনস্টল (Install) করে, ওই গেমটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে কন্ট্রোল (Control) করতে পারবেন।

সহজভাবে বলতে গেলে, গেমটি ক্লাউড সার্ভারে চলবে ওই গেমের ভিডিওটি আপনার কম্পিউটারে দেখতে পাবেন ইন্টারনেটের মাধ্যমে এবং ওই ভিডিও দেখে গেমটির কন্ট্রোল করার জন্য সুইচ টিপলে ওই রেস্পন্স টি ক্লাউড সার্ভারে পৌঁছবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে , এবং গেমটি সঠিক ভাবে চলতে থাকবে।

অর্থাৎ , গেমটি চলবে ক্লাউড সার্ভারে থাকা বেশি RAM ও ভালো প্রসেসরে এবং গেমটিকে নিজের কম্পিউটার থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে control করতে পারবেন।

ক্লাউড গেমিংয়ের জন্য কোনো সার্ভার কে ভাড়া করতে পারেন , এভাবে কম খরচে সার্ভার নিয়ে ওই সার্ভারে গেম খেলা সম্ভব।

ক্লাউড গেমিংয়ের সুবিধা

ক্লাউড গেমিং হলো একটি নতুন idea , যেহেতু এটি একটি ভালো ধারণা তাই এর সুবিধা আছে বলেই অনেকে ক্লাউড গেমিং পছন্দ করছে , তাই এর ভালো দিক গুলি জেনে নেবো যা হলো :-

  • কম হার্ডওয়ারের প্রয়োজন: আপনার কম্পিউটারে গেম খেলার মতো রিসোর্স (resources) না থাকলেও, ক্লাউড গেমিং এর মাধ্যমে খেলা সম্ভব।
  • কম খরচ:গেম খেলার জন্য নতুন কম্পিউটার কিনতে গেলে প্রাথমিকভাবে অনেক টাকার দরকার হয় , তাই ক্লাউড সার্ভার ভাড়া (rent) হিসেবে ব্যবহার করে খরচ বাঁচাতে পারবেন। খুবই কম খরচে গেম খেলার আনন্দ নিতে পারেন। যখন আপনি গেম খেলছেন না , ওই সময় সার্ভারটি অন্য কেউ ব্যবহার করতে পারে , যার ফলে আপনাকে বেশি টাকা দিতে হয়না। যতক্ষণ ব্যবহার করবেন ওই সময়ের টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ ব্যবহার অনুযায়ী টাকা দিতে হবে।
  • সফটওয়্যার সমাধান: গেমের সফটওয়্যার গুলি কিনতেও অনেক খরচ করতে হয় সাধারণত কিন্তু যেহেতু ক্লাউড সার্ভারটি গেম খেলার জন্য আপনি ভাড়া হিসেবে নিচ্ছেন তাই আপনার পছন্দমতো গেমটি ইনস্টল (Install) করা থাকে সার্ভারের মধ্যে। তাই আলাদা করে গেমটি কিনতে হয়না।
  • Maintenance: ওই সার্ভার ব্যবহার করছেন শুধুমাত্র গেম খেলার জন্য। আপনাকে কোনোরকমের মেইনটেনেন্স করতে হবে না , শুধু টাকা দিন আর ব্যবহার করুন। নিজে কোনো কম্পিউটার কিনলে ওই কম্পিউটার মেইনটেনেন্স খরচ করতে হয়। এছাড়াও যদি কোনোকারণে একটি সার্ভারে সমস্যা দেখা যায় তাহলে ক্লাউডে থাকা বাকি সার্ভার ব্যবহার করেও গেম খেলতে পারবেন। নিজে কোনো কম্পিউটার কিনলে ওই কম্পিউটার খারাপ হলে যতদিন না আপনার কম্পিউটার রিপেয়ার হচ্ছে ততদিন খেলতে পারবেন না।

ক্লাউড গেমিংয়ের অসুবিধা

ক্লাউড গেমিংয়ের যেমন সুবিধা আছে তেমনি অসুবিধাও আছে , তাই অসুবিধাগুলি জেনে নেবো। যা হলো :-

  • নির্ভরতা: যেহেতু ক্লাউডের সার্ভার ব্যবহার করছেন তাই আপনি গেম খেলার জন্য সম্পূর্ণভাবে ওই সার্ভারের ওপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়লে , সার্ভার কোম্পানি যদি দাম বৃদ্ধি করে ওই দাম দিতে হবে নাহলে আপনি গেম খেলতে পারবেন না।
  • দ্রুত ইন্টারনেট কানেক্শনের প্রয়োজন : ক্লাউড সার্ভারে যখন গেমটি চলবে ওই গেমের ভিডিওটি আপনার কম্পিউটারের দেখতে পাবেন এবং সেই অনুযায়ী আপনি তৎক্ষণাৎ ভাবে কন্ট্রোল করতে পারবেন গেমটিকে। এর জন্য High speed ইন্টারনেটের প্রয়োজন কিন্তু ইন্টারনেট যদি স্লো হয় তাহলে ভিডিও আপনার কম্পিউটারে আসতে দেরি হবে, এবং ওই ভিডিও অনুযায়ী control করতে গেলে অনেক দেরি হয়ে যাবে। যার ফলে সঠিকভাবে গেম খেলতে পারবেন না। তাই High ইন্টারনেটের প্রয়োজন।
  • কম নিয়ন্ত্রন: যেহেতু ক্লাউড সার্ভারে গেমটি খেলছেন তাই আপনার নিজস্ব কম্পিউটারে খেলার তুলনায় কম নিয়ন্ত্রণ পাবেন।
  • বার বার টাকা দিতে হবে : যদি আপনি গেম খেলার জন্য কম্পিউটার কিনে থাকেন তাহলে কেনার জন্য একবারই টাকা দিলে , পরবর্তীতে আর কোনো টাকা দিতে হবে না।
  • ইন্টারনেট খরচ : অনলাইন গেম খেলতে গেলে ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয়েই থাকে কিন্তু খুব বেশি ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয়না, কিন্তু ক্লাউড সার্ভারের মাধ্যমে গেম খেলতে গেলে খুই দ্রুত এবং বেশি ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয়। কারণ ক্লাউড সার্ভারে যে গেমটি খেলবেন ওই গেমের ভিডিওটি আপনার কম্পিউটারে দেখতে পাবেন যার ফলে ইও ভিডিও দেখতে গেলে খুব বেশি ইন্টারনেটের প্রয়োজন পড়বে। যদি আপনি নিজের কম্পিউটারে ওই গেমটি খেলেন ক্লাউড সার্ভারের পরিবর্তে তাহলে দেখতে পাবেন তুলনামূলকভাবে অনেক কম ইন্টারনেটের প্রয়োজনহচ্ছে। বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করলে বেশি টাকা লাগবে।

ক্লাউড গেমিং ও ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মধ্যে পার্থক্য কি?

ক্লাউড গেমিং হলো ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমেই। অর্থাৎ ক্লাউডে থাকা কম্পিউটারকে ব্যবহার করে গেম খেলা হচ্ছে। ক্লাউড কম্পিউটিংএর মাধ্যমে গেম খেললে এটিকে ক্লাউড গেমিং বলা হয়।

ক্লাউড কম্পিউটিং কি এটি ভালোকরে পড়লে বুঝতে পারবেন ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে কোনো কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার কে ব্যবহার করে অনেক কাজ করা সম্ভব। যেমন গেম খেলা , ভিডিও এডিটিং ইত্যাদি কাজ। সেইজন্য ক্লাউড কম্পিউটিংকে কাজে লাগিয়ে ক্লাউডে থাকা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার কে ব্যবহার করে গেম খেলা যায় এটিকে ক্লাউড গেমিং নাম দেওয়া হয়েছে।

ক্লাউড গেমিং হলো একপ্রকারের ক্লাউড কম্পিউটিং, কিন্তু ক্লাউড কম্পিউটিং মানে অনেকিছুই কাজের জন্য বোঝায় যেমন ডেটা স্টোরেজ হিসেবে ,সফটওয়্যার সার্ভিস হিসেবে অথবা হার্ডওয়্যার সার্ভিস হিসেবে।

আরো সহজভাবে বোঝাতে গেলে , ক্লাউড গেমিং বললে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মাধ্যমে শুধুমাত্র গেম খেলাকে বোঝায় কিন্তু ক্লাউড কম্পিউটিং বললে শুধু গেম খেলা , স্টোরেজ , ইত্যাদি হিসেবে বোঝায়। তাই ক্লাউড গেমিং মানে ক্লাউড কম্পিউটিং হলেও ক্লাউড কম্পিউটিং মানে ক্লাউড গেমিং হবে তার কোনো মানে হয়না।


বন্ধুরা আশাকরি আপনাদের সহজভাবে বোঝাতে পেরেছি , যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে শেয়ার করবেন। কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করে জানাবেন।

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published.