শেয়ার মার্কেটে কত প্রকারের ট্রেডিং করা হয়

বিভিন্ন ধরনের ট্রেডিংয়ের কৌশলগুলি

শেয়ার মার্কেটে ৪ প্রকারের ট্রেডিং করা হয়ে থাকে।

  1. স্ক্যাল্প ট্রেডিং (Scalp Trading)
  2. ইন্ট্রাডে ট্রেডিং (Intraday Trading)
  3. সুইং ট্রেডিং (Swing Trading)
  4. পজিশনাল ট্রেডিং (Positional Trading)

1. স্ক্যাল্প ট্রেডিং (Scalp Trading)

কোনো শেয়ার কে কেনার পর মাত্র কয়েক সেকেন্ডে অথবা মিনিট এর মধ্যেই বিক্রি করে দেওয়া , এরকম ট্রেডিং স্ট্রাটেজি কে স্ক্যাল্প (Scalp) ট্রেডিং বলা হয়।

উদাহরণ হিসেবে : যদি আপনি কোনো শেয়ার কিনলেন এবং কেনার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে অথবা মিনিটের মধ্যেই বিক্রি করে দেন , ওই রকম ট্রেডিং কে স্ক্যাল্প ট্রেডিং বলা হয়।

এরকম অনেক ট্রেডার আছেন যারা শেয়ার মার্কেটের গতিবিধি কে লক্ষ করে , কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শেয়ার কেনা বেচা করে মুনাফা অর্জন করে।

স্ক্যাল্প ট্রেডিংয়ের সুবিধা

  • খুবই কম সময়ের মধ্যে অনেকবার ট্রেডিং করে বেশি profit করা সম্ভব।
  • যেহেতু কম সময়ের মধ্যে ট্রেডিং করা হয় তাই সারাদিন বসে বসে ট্রেডিং করার প্রয়োজন হয় না।

স্ক্যাল্প ট্রেডিংয়ের অসুবিধা

  • কম সময়ের মধ্যে বেশি বার ট্রেডিং করা হয় ,যত বেশি ট্রেডিং করা হবে ততো বেশি ব্রোকারেজ চার্জ (Brokerage Charge) দিতে হবে Stock Broker কে।
  • একমাত্র অভিজ্ঞ ট্রেডার্স রাই স্ক্যাল্প ট্রেডিং করে profit করতে পারে। অনভিজ্ঞ ট্রেডার্সরা প্রায়ই loss করে স্ক্যাল্প ট্রেডিংয়ে।

2. ইন্ট্রাডে ট্রেডিং (Intraday Trading)

কোনো শেয়ার কিনে ওই দিনই বিক্রি করে দিলে , ওই ট্রেডিংয়ের ধরণ কে ইন্ট্রাডে ট্রেডিং (Intraday Trading) বলা হবে।

উদাহরণ হিসেবে : যদি আপনি কোনোদিন শেয়ার কিনলেন এবং ওই একই দিনে ওই শেয়ার কে বিক্রি করে দেন, ওই ধরণের ট্রেডিং কে ইন্ট্রাডে ট্রেডিং বলে। অর্থাৎ একই দিনে শেয়ার কিনে একই দিনে বিক্রি করার ট্রেডিং স্ট্রাটেজি কে intraday trading বলা হয়।

ইন্ট্রাডে ট্রেডিংয়ে শেয়ার কে পরের দিনের জন্য রাখা (hold) করা হয়না।

intraday trading যে শেয়ার গুলিকে দিনের যেকোনো সময়ে কিনতে পারেন এবং ওই শেয়ার কে ওইদিন শেয়ার মার্কেট বন্ধ হওয়ার আগে বিক্রি করতে হবে।

ইন্ট্রাডে ট্রেডিংয়ের সুবিধা

  • শেয়ার একইদিনে কিনে বিক্রি করা হয়, তাই পরের দিনের শেয়ার এর দাম কম বেশি হওয়া নিয়ে কোনো চিন্তা থাকে না, অথবা শেয়ার মার্কেট বন্ধ হওয়ার পর কোম্পানির মধ্যে কোনো খবর যা শেয়ার এর দামে কমিয়ে দিতে পারে, এরকম চিন্তা থাকে না।
  • যেহেতু শেয়ার একইদিনে কিনে একই দিনে বিক্রি হয় , তাই শেয়ার কে DEMAT account এ রাখতে হয়না এবং Demat একাউন্ট এর চার্জ দিতে হয়না।
  • স্টক ব্রোকার ইন্ট্রাডে ট্রেডিং করার জন্য মার্জিন দেয়। যা ব্যবহার করে অনেক বেশি মূল্যের ট্রেডিং করাও সম্ভব। বেশি মূল্যের ট্রেডিং করে বেশি লাভ করা সম্ভব।

ইন্ট্রাডে ট্রেডিংয়ের অসুবিধা

  • একইদিনে শেয়ার কেনা বেচা করতে হয়, তাই কোনো কারণে যদি ওইদিন শেয়ারের দাম কমে যায়, ওই শেয়ার কে অন্য দিনের জন্য Hold করতে পারবেন না। ওই দিনই মার্কেট বন্ধ হওয়ার আগে বিক্রি করতে হবে। যার ফলে যদি লস হলেও বিক্রি করতে হবে।
  • শেয়ার মার্কেটের অভিজ্ঞ দের টাকা লাভ করা সম্ভব , অনভিজ্ঞ ট্রেডার্স প্রায়ই লস করে।

3. সুইং ট্রেডিং (Swing Trading)

কোনো শেয়ার যখন কয়েকদিন অথবা সপ্তাহের জন্য কেনা হয়। এই প্রকারের ট্রেডিং কে সুইং ট্রেডিং বলা হয়।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো শেয়ার কিনলেন এবং আপনি কয়েকদিন অথবা সপ্তাহের মত hold করে রাখলেন, তারপর বিক্রি করলেন।

সুইং ট্রেডিংয়ের সুবিধা

  • যেহেতু শেয়ার কিনে কয়েকদিনের জন্য হোল্ড করা হয়। তাই Risk অনেকটা কম হয়। অর্থাৎ আপনি কোনো শেয়ার কিনলেন এবং ওইদিন শেয়ারের দাম কমে গেলো। তাহলে পরেরদিনের জন্য অথবা তার পরের দিনের জন্য হোল্ড করতে পারেন এবং শেয়ারের দাম বাড়লে বিক্রি করতে পারেন। অর্থাৎ সাময়িক লস থেকে বাঁচা সম্ভব।

সুইং ট্রেডিংয়ের অসুবিধা

  • যেহেতু শেয়ার কে হোল্ড রাখা হয় তাই , কিছুটা চিন্তা তো থেকেই যায়। এমন কোনো news যা শেয়ার মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
  • শেয়ার হোল্ড করে রাখা হয় তাই বিক্রির সময় Demat account এর fees দিতে হয়।

4. পজিশনাল ট্রেডিং (Positional Trading)

এই type টি হলো, কোনো শেয়ার কে কয়েকমাস অথবা বছরখানেক পর্যন্ত Hold করা।

উদাহরণ হিসেবে , আপনার যদি মনে হয় কোনো কোম্পানির রেজাল্ট খুব ভালো আসতে পারে , এই আশায় অনেক ট্রেডার্স শেয়ার কিনে রেখে দেয় যখন শেয়ার এর দাম কম থাকে। কয়েক মাস পরে যখন কোম্পানির রেজাল্ট প্রকাশিত হয়। তখন রেজাল্ট ভালো হলে শেয়ারের মূল্য বেড়ে যায় এবং বিক্রি করে লাভ করতে পারেন।

পজিশনাল ট্রেডিংয়ের সুবিধা

  • অনেকদিন ধরে শেয়ার hold করা হয় , যার ফলে সাময়িকভাবে যদি শেয়ার এর দাম কমেও যায়, পরে দাম বাড়লে বিক্রি করে লাভ করতে পারবেন। সহজ গেলে risk কম positional trading এ।

পজিশনাল ট্রেডিংয়ের অসুবিধা

  • অনেকদিন ধরে টাকা একটি শেয়ার এর মধ্যে থাকে , যার ফলে টাকার দরকার হলে পাওয়া যাবে না।
  • Demat account এ শেয়ার থাকে তাই শেয়ার বিক্রির সময় demat fees দিতে হবে।
শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published.