ফেসবুকে আসক্তি? অনেক সময় কাটাচ্ছেন? কিভাবে নেশা ছাড়াবেন ?

ফেসবুকে আসক্তি

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া একটি জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে আর এখানে শুরু হয়েছে অনেক প্রবলেম অথবা সমস্যা। সোশ্যাল মিডিয়াতে আমরা প্রায় সমস্ত কিছুই দেখতে পাই যেমন ভিডিও আর্টিকেল খবর বন্ধুত্ব কেনাকাটা এবং চ্যাটিং করতে পারি।

কিন্তু সমস্যা হল বর্তমান প্রজন্ম সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষত ফেসবুকে অধিকাংশ সময় কাটিয়ে দিচ্ছে।

এতে কাজকর্ম এবং অনেক কিছুই ক্ষতি হচ্ছে আমরা এই আর্টিকেলে জানব এবং আমরা এটাও জানবো মিডিয়াতে আমরা কিভাবে ভালোভাবে ব্যবহার করব এবং কিভাবে নিজেদের আসক্তি থেকে বের করে নিয়ে আসবো।

ফেসবুক সমন্ধে কিছু তথ্য

সোশ্যাল মিডিয়া কথা যখন বলা হয় তখন ফেসবুক হল একটি অন্যতম সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম যেখানে বেশিরভাগ বর্তমান ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অনেক সময় কাটিয়ে ফেলেছি অথবা নষ্ট করছে বলা যেতে পারে।

ফেসবুক ছাড়াও হোয়াটসঅ্যাপ টুইটার ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি সোশ্যাল মিডিয়াতেও বর্তমানে অনেকটা সময় কাটিয়ে ফেলা হয়।

ফেসবুক বর্তমানে ইউজারদের জন্য একটি আকর্ষণীয় প্ল্যাটফর্ম যেখানে আপনি যদি একবার কোন ভিডিও দেখেন তাহলে একের পর এক ভিডিও অটোমেটিক্যালি আপনার সামনে চলে আসবে এবং আপনি ওই ভিডিওটা দেখবেন তারপর আরো কোনো ভিডিও চলে আসবে এবং আপনি ওটাও দেখবেন এভাবে বুঝতেই পারবেন না কখন অনেকটা সময় কেটে গেছে।

ফেসবুকের একটি ওয়েবসাইট যেখানে আপনি নতুন নতুন বন্ধু খুঁজে পাবেন সেইসঙ্গে বিভিন্ন ভিডিও দেখতে পারবেন ,মিম, মজার মজার জোকস, নতুন কোন তথ্য খবর কোন জিনিস কিনতে পারবেন।

আর এসব কারণের জন্য ফেসবুকে কেউ কেউ জোকস পড়ে মজা পায় কেউ কেউ নতুন নতুন তথ্য জানতে পারে এবং কেউ কেউ ভিডিও দেখে মজা পায়।

আর এভাবেই চলতে থাকে অনেক সময় ধরে ফেসবুক ব্যবহার করা।

ফেসবুকে আসক্তি আসে কিভাবে আসে?

ফেসবুকে আসক্তির পেছনে মূল কারণ হলো ডোপামিন। আমরা যখন কোন জিনিসের মাধ্যমে আনন্দিত হই তখন আমাদের শরীরে ডোপামিন নামের এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়। যা আমাদের আনন্দ প্রদান করে এবং আমরা খুশি হয়ে ওই কাজটা কি জিনিসটাই পুনরায় করার জন্য।

যখন আমরা কোন ভিডিও অথবা জোকস পড়ি অথবা কোন এন্টারটেইনমেন্ট ভিডিও দেখে আমরা খুব খুশি হই এবং আমাদের শরীর থেকে ডোপামিন নিঃসৃত হয়। যা আমাদের ওই কাজটি করতে বেশি পছন্দ হয়।

আমরা যখন কোন ভিডিও দেখি কিংবা জোকস পড়ে ওই সময় আমাদের খুব একটা মাথা খাটাতে হয় না এবং আমরা অনায়াসেই বসে বসে দেখি যে কারণে ওটি এমনিতেই আমাদের পছন্দের বিষয়।

কিন্তু যখন আমরা কোন কঠিন কাজ যেমন কোন হিসাব পড়াশোনা করা হিসাব করতে গেলে আমাদের অনেক মাথার মধ্যে জিনিস ধরে রাখতে হয়। জামরা একদম পছন্দ করি না এর জন্যই পড়াশোনার সময় ডোপামিন নিঃসরণ হয় না আর এর জন্যই পড়াশুনো খুব একটা পছন্দের হয়না সবার কাছে।

আরেকটি উদাহরণ দিচ্ছি যেমন যদি আপনি অংক করতে পারেন না তখন আপনাকে যদি অংক করতে দেয়া হয় আপনি একদমই পছন্দ করবেন না।

সেভাবে যদি কোন ছাত্র-ছাত্রী অংক ছোট থেকে খুব করে আসছে এবং অংক সম্বন্ধে খুব ভালো জানে। যেকোন ক্যালকুলেশন সহজে করে ফেলতে সক্ষম। ওইসব ছাত্রছাত্রীদের কাছে অংক করাটা একটি খুবই সহজ বিষয়। অংক করার সময় ওদের খুব একটা মাথা খাটাতে হয় না তাই ওদের কাছে অংক করার সময় ডোপামিন নিঃসরণ হয় এবং কোষের মাধ্যমে পরবর্তী পছন্দ করে।

তাই আপনি খুব ভালো পড়াশোনা করেন তাহলে আপনার পড়াশোনা করতে আরো ভাল লাগবে তার কারণ হলো আপনি আগে থেকে অনেকটাই জানেন এবং নতুন কোন জানতে খুব একটা কষ্ট করতে হবে না এর জন্যই মেধাবী ছাত্ররা বেশি পছন্দ করে পড়তে এবং পড়াশোনার সময় ওদের শরীরে ডোপামিন নিঃসরণ হয় যার জন্য ওরা আরো বেশি পড়াশোনা করতে সক্ষম হয়।

ঠিক একই ভাবে যদি আপনি ফেসবুকের কথা বলব ভাবেন তাহলে প্রথমত ফেসবুক করার সময় তোমাদের খুব একটা মাথা খাটাতে কিংবা কষ্ট করতে হয়না যার কারণে আমরা আরো বেশি বেশি করে ফেসবুক করি এবং আসক্তিতে পরিণত হয়।

অনেকেই কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে করতে হঠাৎ মোবাইলের লাইটটা জ্বলে উঠল এবং এই বুঝি মনে হল যে ফেসবুকে মেসেজ করেছে তাই ফেসবুক তা দেখে নেওয়া এবং এভাবেই মনটা মোবাইলের দিকে আছে।

আর এভাবেই কোন কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় না এবং আপনি যদি পড়তে বসতে থাকেন তাহলে আপনার পড়াশোনা ও সঠিকভাবে হবে না যার জন্য আপনি পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে যাবেন।

একবার পড়াশোনা পিছিয়ে গেলে তখন পুরোটা একসঙ্গে পড়া অনেক কষ্টকর। এই কারণেই আর পড়াশোনা করতে ভালো লাগেনা।

এই লকডাউনে লকডাউনে ঘরে বসে থাকা এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করা তাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে করতে আমরা বলেই চাই কতক্ষণ আমার মোবাইলে কাটিয়েছি।

বর্তমান সময়ে নতুন প্রজন্ম অনেকটাই সময় মোবাইল ফোনে কাটিয়ে দেয় যা একটি আসক্তিতে পরিণত করেছে।

ধরুন আপনি একটি ভিডিও দেখা শুরু করলেন এবং পরবর্তী ভিডিও ফেসবুক অটোমেটিক্যালি আপনার সামনে কোন রেসিপি অথবা অন্য কোন আকর্ষণীয় ভিডিও দেখানো আপনি ওটা দেখতে থাকবেন পরবর্তী ওই ভিডিওটা শেষ হওয়ার পরে আপনি আবার নতুন কোন আকর্ষণীয় ভিডিও দেখতে শুরু করবেন এবং এভাবেই চলতে থাকে।

এছাড়া অনেক সময় বিভিন্ন জোকস কিংবা কমেন্ট করে সে কমেন্টে রিপ্লাই দিতে ব্যস্ত এভাবেই অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যায়।

এছাড়া আপনি প্রতিদিন নতুন নতুন পোস্ট কিংবা ভিডিও ছবি আপলোড করে সেগুলোতে কত লাইক হয়েছে কত কমেন্ট হয়েছে এগুলো দেখতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট হবে সেইসঙ্গে এই কমেন্টের রিপ্লাই দিতে অনেকটা সময় কেটে যায়।

এবং ধীরে ধীরে এগুলি একটি আসক্তিতে পরিণত হয় এবং কোন কারন ছাড়াই ঘন্টার পর ঘন্টা ফেসবুক অন করে শুধুমাত্র স্ক্রল করতেই থাকেন।

কিংবা কখনো নতুন বন্ধু বানিয়ে তাদের সঙ্গে চ্যাট করা এসব করতে করতেই কখন যে সময় পেরিয়ে যায় তা মাথায় থাকে না।

ফেইসবুকে আসক্তি হলে কি কি লক্ষণ দেখা যায়?

ফেসবুক আসক্তি হলে আপনি ঘনঘন কোনো কারণ ছিল ফেসবুক অন করবেন।

যার ফলস্বরূপ আপনি কোন জিনিসের প্রতি মনঃসংযোগ করতে পারবেন না।

কাজে বাধার সৃষ্টি হবে। কোন কাজ যদি আপনি কয়েকটি মিনিট কিংবা ঘন্টাতে পড়তেন সেই কাজ করতে অনেক সময় লেগে।

বিশেষ করে যারা পড়াশোনা করেন ওনাদের জন্য খুব ভালো বিষয় নয় কারণ পড়াশোনা করার জন্য অনেক মনঃসংযোগ দরকার হয় তাই মনোযোগ যদি নষ্ট হয় তাহলে পড়াশোনা কোনভাবেই মাথায় ঢুকবে না এবং পড়তে ভালো লাগবে না।

ফেসবুকের আসক্তি থেকে কিভাবে নিজেকে দূরে রাখবেন?

অনেকের কাছে ফেসবুক খুবই একটি ভালো জায়গা যেখানে সহজে কোন খবর কিংবা অজানা তথ্য জানা সম্ভব হয় তাই অনেকেই এ কারণে ফেসবুক ব্যবহার করেন কিন্তু সমস্যা হল এগুলোই জন্য ব্যবহার করতে করতে কখন যে আসক্তি চলে আসে তা বুঝতে পারা যায় না

পুরোপুরি ফেসবুক ছেড়ে দেওয়া এটা হয়তো সবার পক্ষে সম্ভব নয় কিন্তু আপনি যদি ফেসবুক আসক্তি দূর করে পড়াশোনা তে কিংবা কোন কাজে মন দিতে চান তাহলে একটি উপায় বলছি যে আপনি মেনে চলতে পারেন।

উপায়টি হল, মোবাইল থেকে নিজেকে দূরে রাখা। এবং প্রতিদিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই ফেসবুক ব্যাবহার করা টা ঠিক নয় কারণ একবার ফেসবুক ব্যবহার করে পর ডোপামিন নিঃসৃত হলে। তারপর আপনি যদি পড়াশোনা করতে বসেন কিংবা কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে বসেন তাহলে ডোপামিন নিশ্চিত হবে না এবং আপনি মোটেও হয় কাজ কি পছন্দ করবেন না।

সেই কারণে আপনাকে আগে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে নিতে হবে মোবাইলকে দূরে রেখে তারপর আপনি ফেসবুক করেন তাতে খুব একটা সমস্যা হবে না।

আগে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হবে তারপর ফেসবুক।

কখনোই আগে নিজেকে খুশি দেবেন না কাজ করার পরেই তবেই খুঁজে দেবেন। আর আপনি যদি উল্টোটা করেন যে আগে খুশি দিবেন তারপরে কাজ করবেন তাহলে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করা খুবই কষ্টের।

এখানে খুশি দেওয়ার অর্থ হল মোবাইলফোনে সোশ্যাল মিডিয়া অর্থাৎ ফেসবুক কিংবা টিভি দেখা এইসব, আপনাকে আনন্দ দিচ্ছে।

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published.