EMI কি? 0% ইএমআই কি

EMI কি_ কিভাবে EMI এর হিসেব করবেন_ _ইএমআই এর ভালো দিক_ অসুবিধা, EMI নেওয়ার উচিত_

EMI এর পুরো নাম হলো Equated monthly installment অর্থাৎ সমান মাসিক কিস্তি।

EMI এর অর্থ হলো, কিস্তিতে ঋণ পরিশোধের জন্য, প্রতিমাসের একটি নির্দিষ্ট দিনে, ঋণের (loan) কিছু অংশ ও বকেয়া টাকার সুদ হিসেবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ঋণদাতা কে দেওয়া।

উদাহরণ হিসেবে, আপনি বাড়ি তৈরির জন্য ব্যাংক থেকে ৫ লাখ টাকা Home loan নিলেন। ওই ৫ লাখ টাকার আসল ও সুদ একসঙ্গে ব্যাংকে ফেরত দিতে না পারলে, EMI (Equated Monthly Installment) অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রতিমাসে দিয়ে, কয়েক বছরে ঋণ শোধ করতে পারেন।

কত টাকা EMI হিসেবে প্রতি মাসে দিতে হবে তা নির্ভর কত সময়ের মধ্যে ঋণটি (Loan) শোধ করতে চাইবেন।

কত সময়ের মধ্যে ঋণ শোধ করতে চাইছেন এটির ওপর নির্ভর করে, সুদের পরিমাণ হিসেব করা হয়। ওই হিসেব অনুযায়ী প্রতিমাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হবে।

কিভাবে EMI এর হিসেব করবেন?

E=P× {r(1+r)n}÷{ (1+rn)-1}

এখানে,
E= মাসিক কিস্তির টাকার পরিমাণ।
P= মোট ঋণের পরিমাণ।
r= সুদের হার।
n= মোট কিস্তি. অর্থাৎ:- ২ বছরের মধ্যে ঋণ মেটাতে চাইলে ২ বছরে ২×১২ =২৪ টা কিস্তি

উদাহরণ হিসেবে, আপনি যদি ১০০ টাকা নেন ব্যাংক থেকে ১০ শতাংশ সুদের হার। ২ বছরের মধ্যে ঋণ শোধ করতে গেলে :-

A= ১০০× {১০(১+১০)^২৪}÷{ (1+১০^২৪)-1}

A=৪.৬১ টাকা প্রতিমাসে EMI দিতে হবে ২ বছর ধরে।

অর্থাৎ ২ বছরে ২৪ মাস পড়বে , ৪.৬১ টাকা প্রতিমাসে দিতে হবে মাস ধরে। ২৪ মাসে ১১০.৬৪ টাকা দিচ্ছেন অর্থাৎ ১০০ টাকা নিয়ে ২ বছরে কিস্তিতে শোধ করার জন্য ১০.৬৪ টাকা শুধু দিতে হবে। প্রতি মাসে ৪.৬১ টাকা দিচ্ছেন এই টাকার মধ্যে ১০.৬৪ টাকা সুদ দেওয়া হচ্ছে ।

EMI ক্যালকুলেট করুন সহজেই EMI ক্যালকুলেটর এর সাহায্যে।

কিভাবে ইএমআই এর টাকা জমা দেওয়া হয়?

EMI এর টাকা সাধারণত ২ ভাবে জমা দেওয়া যায়। যে হলো:-

  1. অনলাইনের মাধ্যমে প্রতিমাসে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি টাকা কেটে নেবে ব্যাংক।
  2. ব্যাংকে গিয়ে টাকা জমা দেওয়া।

ইএমআই এর ভালো দিক?

কোনো দরকার পড়লে এককালীন অনেক টাকা নিয়ে ওই টাকা ধীরে ধীরে দেওয়া সম্ভব হয়। এককালীন টাকা দিয়ে অনেক কিছু করা যায়।

অনেকেই এককালীন অনেক টাকা জোগাড় করতে পারেনা তাই একটি খুব সুবিধা।

ব্যাংকে একসঙ্গে আসল ও সুদের টাকা ফেরত দিতে হয় না।দ এটাই এটিও সুবিধে।

EMI এর অসুবিধা

অনেকদিন ধরে টাকা দেওয়ার কারণে অনেক বেশি টাকা সুদ হিসেবে দিতে হয়।

EMI নেওয়ার কি উচিত ?

বর্তমান দিনে EMI প্রায় সর্বত্র পাওয়া যায়, অনলাইনে কোনো জিনিস কিনলেও কিস্তিতে টাকা শোধ করতে পারবেন।

বিভিন্ন অনলাইন শপিং ওয়েবসাইটে এইরকম সুবিধা দেওয়া থাকে, যার ফলে সহজেই জিনিসপত্র বিক্রি হয়, এরজন্য আপনি কোনো টাকা না দিয়েই জিনিস কিনে নিতে পারবেন।

পরে, প্রত্যেক মাসে মাসে টাকা দিয়ে শোধ করতে হবে, এতে কোম্পানি সুদ নেয়।

তাই আমার মতে, যদি একসঙ্গে অনেক টাকার দরকার হয় তাহলে EMI এর দিকে দেখা উচিত, যদি অন্য কোনো উপায় না থাকে।
নাহলে না নেওয়াই ভালো, কারণ এমনিতে সুদ হিসেবে অনেক টাকা দিতে হবে।

যদিও অনেকেই EMI সব সময় নিতেই থাকে এবং শোধ করতেও থাকে।

0% EMI মানে কি?

0% EMI এই লেখাটি সাধারণত শপিং ওয়েবসাইটে লেখা থাকে।

যেমন ধরুন কোনো প্রোডাক্ট কিনতে চান এই প্রোডাক্ট টি কিনতে চাইলে EMI এর মাধ্যমে তো কিনতে পারবেন (অর্থাৎ একসঙ্গে আপনাকে টাকা দিয়ে কিনতে হবে না , প্রোডাক্ট কেনার পরে মাসে মাসে ইনস্টলমেন্ট এ টাকা দিয়ে প্রোডাক্ট এর দাম শোধ করতে পারেন , কিন্তু আপনাকে EMI তে কোনো জিনিস কিনতে গেলে অতিরিক্ত কিছু % টাকা সুদ হিসেবে দিতে হয়).

কিন্তু, যেসব শপিং ওয়েবসাইটে লেখা থাকে “এই প্রোডাক্টটি কিনুন 0% EMI এ তে” অর্থাৎ আপনি যদি EMI এর মাধ্যমে ওই প্রোডাক্টটি কিনতে চান, তাহলে আপনাকে সুদ হিসেবে কোনো অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না।

আপনাকে শুধুমাত্র প্রোডাক্টের দামটি মাসে মাসে ইনস্টলমেন্টে টাকা দিয়ে শোধ করতে পারবেন, কোনো অতিরিক্ত টাকা লাগবে না

EMI facility কি?

কোনো জিনিস কেনার সময় বিক্রেতা ক্রেতাকে EMI facility প্রদান করে থাকলে, আপনি সহজেই প্রোডাক্টটি কিনতে পারবেন যদি আপনার কাছে ওই সময় প্রোডাক্টটি কেনার জন্য সম্পূর্ণ টাকা নাও থাকে তাহলে EMI এ কিনে নিতে পারবেন। এবং EMI তে মাসে মাসে নির্দিষ্ট পরিমান টাকা দিয়ে বিক্রেতাকে দিয়ে জিনিসের দাম শোধ করতে পারবেন।

এরকম facility যদি বিক্রেতা প্রদান করে থাকে তাহলেই বলা হয়ে থাকে যে EMI Facility আছে। অর্থাৎ আপনি চাইলে এখন জিনিস কিনতে নিয়ে ধীরে ধীরে টাকা শোধ করতে পারবেন।

উপসংহার

সহজ ভাষায় EMI হলো, এককালীন ঋণ নিয়ে ওই ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্য , প্রত্যেক মাসে একটি নির্ধারিত পরিমাণ টাকা ঋণদাতা কে দেওয়া।

সুবিধা হলো, একসঙ্গে অনেক টাকা loan হিসেবে পাওয়া যায় এবং ধীরে ধীরে আসল ও সুদ সমেত টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়।

অসুবিধা হলো: সুদ বেশি লাগে ,কারণ অনেকদিন ধরে টাকা শোধ করার জন্য।

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *