হোস্টিংগার হোস্টিং রিভিউ , স্পীড, দাম, ভালো ও খারাপ দিকগুলি

Hostinger হোস্টিং রিভিউ ,স্পীড , দাম ভালো ও খারাপ দিকগুলি

অনেকেই হয়তো শুনেছেন হোস্টিংগার কোম্পানি এর নাম। এটি হলো একটি ওয়েব হোস্টিং সার্ভিস প্রোভাইডার (web Hosting Service Provider)। আপনি যদি ওয়েবসাইট বানাতে চান অথবা অন্য কোনো হোস্টিং থেকে hostinger এ ওয়েবসাইটটি ট্রান্সফার করতে চান, তাহলে এই রিভিউ (Review) টি আপনার জন্য।

১. দাম

দাম অনুযায়ী hostinger খুবই সস্তা অন্যান্য reputed ( নাম করা) হোস্টিং কোম্পানির মধ্যে।

Hostinger খুবই সস্তা তে হোস্টিং সার্ভিস দেয়।

হোস্টিংগার এর থেকেও সস্তা হোস্টিং পেয়ে যাবেন কিন্তূ ওই হোস্টিং কম্পানি গুলির বিশ্বস্ততা নেই। তাই ভরসা করাও যায় না।

তাই দাম অনুযায়ী hostinger খুবই সস্তা অনন্য বিশ্বস্ত কোম্পানি গুলির মধ্যে।

সেই সঙ্গে ফ্রী তে ডোমেইন( Domain) নাম ও পাওয়া যায় পরে premium ও Business প্ল্যান কিনলে।

দাম অনুযায়ী সস্তা ও ভরসা যোগ্য হোস্টিং কোম্পানি , তাই ডাটা এর সুরক্ষিত থাকার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এছাড়াও বিনামূল্যে ডোমেইন পাওয়া যায় ।

২. Overview

Hostinger এ Cpanel এর পরিবর্তে Hpanel পাওয়া যায়। এই hpanel টি hostinger এর কাস্টোমাইজ (Customized) একটি প্যানেল পাবেন।

এই কাস্টম প্যানেলটি Cpanel এর মতই দেখতে এবং সব অপশনই আছে যা Cpanal এ থাকে।

আমি তো বলবো Cpanel এর থেকে তো hpanel আরো বেশি দেখতে ভালো এবং সাজানো। তাই hpanel ব্যাবহার করলে কোনো সমস্যা হবে না।

৩. ডাটা সেন্টার

হোস্টিংগার এর ডাটা সেন্টার 7টি আলাদা আলাদা জায়গাতে আছে। যেমন :

  1. আমেরিকা
  2. ইংল্যান্ড
  3. সিঙ্গাপুর
  4. নেদারল্যান্ড
  5. ব্রাজিল
  6. ইন্দ্রনেশিয়া
  7. লিথুয়ানিয়া

এর মধ্যে আমাদের ওয়েবসাইট যদি আমেরিকার ভিজিটর এর জন্য তাহলে আমেরিকা এর সার্ভার ব্যাবহার করতে পারবেন।

আর সাউথ এশিয়া থেকে যদি ওয়েবসাইটে ভিজিটর আসে তাহলে সিঙ্গাপুর হলো কাছের ডাটা সেন্টার।

তাই আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর যে জায়গা থেকে আসবে , ওই জায়গায় আশেপাশের কোনো সার্ভার লোকেশন select করতে পারবেন।

Data center এই ৭ টি জায়গাতে আছে।

৪. সার্ভার রেসপন্স টাইম (Server Response Time)

সার্ভার রেসপন্স টাইম নির্ভর করে কোন জায়গা (location) থেকে ওয়েবসাইটে ভিজিট করছেন এবং কোন জায়গার সার্ভারটি ব্যাবহার করছেন।

যদি US এর সার্ভার ব্যাবহার করে ভারত, বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলি থেকে ভিজিট করেন তাহলে ২০০ms ( মিলিসেকন্ড) এর মত সময় লাগে এবং আমেরিকা থেকে ভিজিট করলে ৪০ms (মিলি সেকেন্ড) এর মত সময় লাগে।

সিঙ্গাপুরের সার্ভার ব্যবহার করলে, ভারত , বাংলাদেশ, এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলি থেকে ভিজিট করলে ৪০ ms এর মত সময় লাগে, এবং আমেরিকা থেকে ভিজিট করলে ৩৫০ ms এর মত সময় লাগে।

সার্ভার রেসপন্স টাইম এভারেজ (average)।

৫. স্পীড টেস্ট

সিঙ্গাপুর সার্ভারের স্পীড মোটামুটি অনেকটাই ১ সেকেন্ড অথবা তার থেকেও কম সময়ের মধ্যে ওয়েবসাইট কে লোড হয়ে যায় Normal website ।

US সার্ভার কিন্তূ সিঙ্গাপুর সার্ভার এর থেকে আরো বেশি দ্রুত ১ সেকেন্ডের ও কম সময়ের মধ্যে ওয়েবসাইট লোড করে দেয়।

যদিও আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর যদি এশিয়া থেকে আসে তাহলে সিঙ্গাপুর সার্ভার ব্যবহার করুন।

স্পীড অনুযায়ী হোস্টিংগার ভালো।

৬. লোড টেস্টিং (Load Testing)

লোড testing এর অর্থ হলো সার্ভার কত ভিজিটর একসঙ্গে হ্যান্ডেল করতে পারবে। এবং ওই সার্ভার গুলি যখন একসঙ্গে বার বার ওয়েবসাইট এর অন্যান্য পেজ গুলি কোড করবে তখন সার্ভারের অপর লোড পড়ে।

তাই লোড টেস্টিং খুবই জরুরি কোনো হোস্টিং কেনার আগে।

সিঙ্গাপুর সার্ভারে shared হোস্টিং যদি ব্যবহার করেন তাহলে একসঙ্গে ৫০ ভিজিটর যদি একসঙ্গে ওয়েবসাইটে ভিজিট করে তাহলে হ্যান্ডেল করতে পারবে। এবং প্রায় সমস্ত request কে সঠিকভাবে রেসপন্স (Response) করতে সক্ষম। যদিও মাঝে মাঝে লোড হওয়ার টিকে একটু বেড়ে যেতেও পারে

US সার্ভেরে shared হোস্টিং ব্যবহার করলে, ৫০ টা ভিজিটর সহজেই হ্যান্ডেল করতে পারবে। এবং loading টাইম ও বাড়ে না।

এবং ক্লাউড হোস্টিং ব্যাবহার করলে খুব সহজেই ৫০ ভিজিটর কে হ্যান্ডেল করতে পারবে । এর থেকে বেশী হলেও কোনো সমস্যা হবে না।

সার্ভার লোডিং ও রেসপন্স টাইম খুবই ভালো, এবং সহজেই ৫০ ভিজিটর একসঙ্গে এলে সামলাতে পারবে। সিঙ্গাপুর সার্ভার কিছুটা টাইম লাগাতে পারে কিন্তূ US সার্ভার সহজে পারবে এবং ক্লাউড খুব সহজেই লোড করে দিতে সক্ষম।

৭. Uptime

Hostinger এর UPtime ৯৯% এর বেশি থাকে। কিন্তূ কোনো কোনো মাসে ৯৭% ও হয়ে যায়।

কিন্তূ বেশিভাগ সময় ৯৯% এর বেশি সময় সার্ভার সঠিকভাবে কাজ করে।

uptime মোটামুটি ভালোই । সার্ভার খুব কম সময় ডাউন হয়।

৮. SSL সার্টিফিকেট

হোস্টিংগার শুধুমাত্র একটি ডোমেইনকে SSL সার্টিফিকেট দেবে। বাকি ওয়েবসাইটে যদি SSL ব্যাবহার করতে চান তাহলে কিনতে পারেন।

SSL সার্টিফিকেট শুধুমাত্র একটি ওয়েবসাইটে দেয়। SSL সার্টিফিকেট দেয়না এটা একটু অসুবিধা বলা যেতে পারে।

কিন্তূ এই সমস্যা সমাধান করার জন্য Cloudflare ব্যবহার করে SSL সার্টিফিকেট পেতে পারেন।

  • জানুন : Cloudflare কি ? কিভাবে SSL পাবেন ফ্রী তে? পড়ুন

৯. সাপোর্ট (Support)

সাপোর্ট হিসেবে ২৪×৭ সবসময় লাইভ চ্যাট (live chat) সাপোর্ট পাবেন।

কিন্তূ রিপ্লাই পেতে কখনো কখনো অনেকটা সময় লেগে যায়।

সাপোর্ট average বলা যেতে পারে।


Hostinger হোস্টিংয়ের ভালো দিকগুলি :

  • স্পিড ভালো।
  • ডাটা সেন্টার ৭ টি আলাদা আলাদা জায়গাতে অবস্থিত।
  • ভরসা যোগ্য।
  • সার্ভার রেসপন্স টাইম (Average)।
  • শেয়ার হোস্টিং সার্ভারে ৫০ user টি একসঙ্গে সামলাতে পারবে (ক্লাউড হলে আরো বেশি)।
  • uptime মোটামুটি ভালোই । সার্ভার খুব কম সময় ডাউন হয়।
  • দাম কম।

হোস্টিংগার হোস্টিংয়ের খারাপ দিকগুলি :

  • SSL সার্টিফিকেট মাত্র একটা ওয়েবসাইটের জন্য। (যদিও এই সমস্যার সমাধান হলো Cloudflare ব্যবহার করতে পারেন )
  • সাপোর্ট এর জন্য কোনো ফোন নম্বর নেই , লাইভ চ্যাট এর মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে পারেন।

উপসংহার

ক্লাউড অথবা shared হোস্টিং যদি কিনতে চান , তাহলে hostinger হলো সবথেকে ভালো একটি হোস্টিং কোম্পানি।

নিঃসন্দেহে এর থেকে ভালো হোস্টিং Provider ও সস্তায়।

এর থেকে সস্তায় যে হোস্টিং কম্পানি দেখতে পাবেন ওগুলি তে ওয়েবসাইট হোস্ট করলে আপনার ডাটা এর সুরক্ষা অতোটা ভালো নয়। এছাড়া কোনোদিন যদি বন্ধ হয়েও গেলে আপনার ডাটা সমস্ত হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ও থাকে।

কিন্তূ বড়ো হোস্টিং কোম্পানি যেমন, hostinger ও অন্যান্য বড়ো কোম্পানিগুলির নিজস্ব ডাটা সেন্টার আছে। তাই কোম্পানির অপর ভরসা করা যায়।

হোস্টিংগারের রিভিউ টি আপনার ভালো লেগে থাকলে, কমেন্ট করে জানাবেন অবশ্যই।

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের জন্য সবথেকে ভালো হোস্টিং

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published.