ল্যাপটপ কেনার আগে কি কি দেখে নেওয়া উচিত?

ল্যাপটপ কেনার আগে কি কি দেখে নেওয়া উচিত?

ল্যাপটপ কেনার আগে আমাকে কিছু জিনিস দেখে নিতে হবে নাহলে পরে আপনার কোনো সমস্যা যাতে না হয়। তাই আমরা জেনে নেব ল্যাপটপ কেনার আগে কি কি দেখে নেওয়া উচিত? তাহলে পড়ে ফেলুন এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণভাবে।

আমার মতে এই 11 টি জিনিস যদি দেখে নেন তাহলে ল্যাপটপ কেনার পর আর কোনো সমস্যায় পড়বেন না। সেগুলি নিচে ১, ২ করে সাজিয়ে লেখা হলো।


1. অপারেটিং সিস্টেম (Operating system)

Mac এবং উইন্ডোজ সিস্টেম সফটওয়ার এর ল্যাপটপ সাধারণত ব্যাবহার করতে দেখা যায়।

Mac হলো আপেল কম্পানি এর ল্যাপটপ। এবং উইন্ডোজ সফটওয়ার যেকোনো কোম্পানি এর ল্যাপটপ এর সঙ্গে পাওয়া যায়। যদিও উইন্ডোজ সফটওয়ার এর জন্য আলাদা করে দাম দিতে হয়।

তাই ল্যাপটপ কেনার আগে ভেবে নেওয়া উচিত কোন অপারেটিং সফটওয়ার এর ল্যাপটপ কিনবেন।

যদিও আমি এই বিষয়ে কিছুটা সাহায্য করতে পারি।

MAC অপারেটিং সিস্টেম অ্যাপল ল্যাপটপ এর মধ্যেই আসে। তাই Mac অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে গেলে অ্যাপল এর ল্যাপটপ কিনতে হবে। এবং সাধারণত অ্যাপল এর ল্যাপটপ একটু দামি হয় অন্যান্য উইন্ডোজ ল্যাপটপ এর তুলনায়।

আপেল এর ল্যাপটপ খুবই fast, secure কিন্তুু এখানে অন্য কোনো সফটওয়ার কিম্বা কোনো কিছু কিছু জন্য আলাদা আলাদা টাকা লাগে। তাই শুধু ল্যাপটপ কিনলেই হবে না। ল্যাপটপ এর যেকোনো রকম অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়ার ব্যাবহার করতে গেলে প্রায়ই টাকা দিয়ে কিনতে হয়।

সেই সঙ্গে কীবোর্ড মাউস ইত্যাদি জিনিস ব্যাবহার করতে গেলে আলাদা করে এক্সটেনশন লাগাতে হবে। এতেও খরচ আছে।

এইসব খরচ যদি করতে পারেন তাহলে অ্যাপল খুবই ভালো ল্যাপটপ কারণ এটি খুবই ফাস্ট। এছাড়া যদি আপনি শুধুমাত্র ইন্টারনেট ব্যাবহার করার জন্য কিনতে চান তাহলে কিনতে পারেন। সেক্ষেত্রে এক্সট্রা খরচ করতে হবে না।

উইন্ডোজ অপারেটিং সফটওয়ার একবার কিনে ফেললে বাকি সফটওয়ার অনলাইনে এ ফ্রী তেই পাওয়া যায়। তাই উইন্ডোজ ই কম খরচ।


2. স্কিন সাইজ অথবা ডিসপ্লে এর আকার

ল্যাপটপ কেনার আগে আপনাকে Screen এর আকার পছন্দ করতে হবে।

অনেকেই বড়ো স্ক্রিনের সাইজ পছন্দ করেন। আবার কেউ কেউ ছোটো স্ক্রিন সাইজ পছন্দ করেন। আপনাকে পছন্দ করতে হবে ছোটো স্ক্রিন নেবেন নাকি বড়ো।

যদিও আমি আপনাকে সাহায্য করবো কোন সাইজ এর স্ক্রিন আপনার জন্য ভালো হবে।

যদি আপনি ভিডিও edit করেন , অ্যানিমেশন, গ্রাফিক্স ডিজাইন কিম্বা আরো কম্পিউটার এ গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন তাহলে বড়ো স্ক্রিন ভালো হয়।

করো বড়ো স্ক্রিন এ ছোটো ছোট জিনিসকেও ভালো ভাবে দেখা যায়।

এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বড়ো ডিসপ্লে ভালো হয়। যেকোনো রকম কাজ করতে বড়ো ডিসপ্লে তে ভালোভাবে দেখা যায়।

যদি মনে করেন আপনি ল্যাপটপ এ এসব কিছুই করবেন না এবং খুব বেশি এখান থেকে ওখানে ট্রাভেল করবেন তখন ছোট ল্যাপটপ এ সহজেই ব্যাগের মধ্যে রেখে ট্রাভেলিং করা যায়। হালকা হয় আর ছোটো হয়।

এছাড়া ছোটো ল্যাপটপ এর দাম কিছুটা কম হয় বড়ো স্ক্রিন এর তুলনায়।


3. Processor (প্রসেসর)

প্রসেসর অর্থাৎ CPU (Central processing unit)।

ল্যাপটপ কিনছেন কোনো কাজ করার জন্য এবং এই কাজটি যেনো সহজেই করতে পারে। এর জন্য চাই সঠিক প্রসেসর (CPU)।

CPU এর দ্বারা কম্পিউটার এর সমস্ত কাজ প্রসেসিং করা হয়। অর্থাৎ আপনি যখন কোনো কাজ করেন সেই কাজটি CPU তে যায় । এবং CPU থেকে প্রসেসিং হয়ে আমাদের স্ক্রিন এ দেখা যায়।

তাই CPU যদি যত ক্ষমতা সম্পন্ন হবে তত তাড়াতাড়ি কাজটি করা যাবে কোনরকম কোনো বাধা ছাড়াই।

তাই আপনি যদি বড়ো সফটওয়ার অথবা ভিডিও এডিটিং রেন্ডারিং এর কাজ করতে চান তাহলে ভালো ক্ষমতা সম্পন্ন CPU চাই।

বর্তমান সময়ে সাধারণত দুটি কোম্পানি এর CPU ল্যাপটপ এ লাগানো থাকে একটু হলো intel এর আর দ্বিতীয় টি হলো AMD এর প্রসেসর।

ইনটেল এর প্রসেসর খুবই ভালো কাজ করে। AMD এর প্রসেসর ও ভালো এবং এটি একটি সস্তা ইনটেল এর তুলনায়। কিন্তুু ইনটেল এই সব থেকে পছন্দের।

প্রসেসর সমন্ধে আরো বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। কোনটি ভালো প্রসেসর এরকম সব প্রশ্ন ও উত্তর।


4. RAM

RAM (Random access memory) এটি একটি মেমোরি । এটির কাজ হলো আপনি যখন কোনো কাজ করেন অর্থাৎ ধরুন আপনি মাইক্রোসফট ওয়াড সফটওয়ার টি তে কাজ করছেন।

প্রথমে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড (Microsoft word) অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়ার টি কম্পিউটার এর হার্ড ড্রাইভ থেকে RAM এ লোড হয়।

তারপর তারপর RAM থেকে CPU তে সরাসরি ডাটা ট্রান্সফার হয়। অ্যাপ্লিকেশন এর মধ্যে যা কাজ করেন ওটি ram এর মধ্যেই সঞ্চিত (save) থাকে।

তাই RAM এর মেমরি সাইজ ১ জিবি , ২ জিবি (GB) ইত্যাদি ইত্যাদি হয়। RAM এর মেমরি যত বেশি হবে তত বেশি কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব অথবা বড়ো কোনো সফটওয়ার চালানো সম্ভব কোনরকম সমস্যা ছাড়াই।

বর্তমানে অনলাইনে গেম ১০০ জিবি পর্যন্ত কিম্বা এর থেকেও বেশি হতে পারে। সেক্ষেত্রে ওই সব গেম খেলার জন্য বেশি RAM এর প্রয়োজন।

যদি আপনি খুব ভারী কাজ না করেন কম্পিউটার এ তাহলে কম RAM হলেও চলবে।

বর্তমানে ৩-৪ জিবি RAM এ মোটামুটি সাধারণ প্রায় সব কাজই হয়ে যায়।


5. GPU অর্থাৎ গ্রাফিক্স কার্ড

GPU এর পুরো নাম হলো Graphics processing unit (গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট) । এটির ভিডিও গ্রাফিক্স কে প্রসেসিং করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

যদি আমরা এটা না ব্যাবহার তাহলেও ল্যাপটপ কম্পিউটার কাজ করবে। কিন্তূ Full HD ভিডিও আমরা দেখতে পারবো না।

কারণ হলো এমনিতে স্বাভাবিক ভিডিও এর গ্রাফিক্স কে প্রসেসিং CPU করতে পারে। কিন্তু উন্নত মানের (high quality) video কে প্রসেসিং করতে পারে না CPU।

এছাড়াও বর্তমান দিনে নতুন নতুন অনলাইনে ও অফলাইন গেম বেরোচ্ছে। যেগুলোর গ্রাফিক্স খুবই high। তাই ওই সব গেম খেলতে গেলে গ্রাফিক্স কার্ড লাগবেই।

তাই যদি আপনি গেম কিংবা High quality ভিডিও দেখতে চান তাহলে ভালো গ্রাফিক্স কার্ড অবশ্যই দেখে নেবেন।

আর যদি শুধু মাত্র অফিস কাজের জন্য তাহলে গ্রাফিক্স কার্ড না থাকলেও চলবে।


6. SSD Storage (এসএসডি স্টোরেজ)

বর্তমান দিনে কেউই আর slow ল্যাপটপ ব্যাবহার করতে চায় না। আমরা সকলেই চাই যে কোনো সফটওয়ার এ ক্লিক করলেই যেনো চালু হয়ে যায়।

আর এর জন্যই নতুন নতুন টেকনোলজি আবিষ্কার হচ্ছে।

আগে ল্যাপটপ কম্পিউটার এ HDD (Hard disk drive) অর্থাৎ হার্ড ডিস্ক। যার মধ্যে আমরা সমস্ত রকম ডাটা , ভিডিও, ছবি সঞ্চিত করে রাখতাম।

কিন্তুু সমস্যা হলো হার্ড ডিস্ক খুবই ধীরে ধীরে ডাটা ট্রানসফার করে। এর জন্য হার্ড ডিস্ক যে ল্যাপটপ এর মধ্যে থাকে সেই ল্যাপটপে ডাটা কিছুটা ধীরে দেখায়।

তাই হার্ড ডিস্ক এর পরিবর্তে বর্তমানে SSD এসেছে। যার দ্বারা কোনো file open করতে গেলে সবই দ্রুত ফাইল টি খুলে যাবে।

SSD ব্যাবহার করলে কম্পিউটার খুবই ফাস্ট মনে হয়।

যদিও SSD এর দাম বেশি HDD এর তুলনায়। তাই যদি আপনার কাছে বাজেট থাকে । তাহলে SSD কেনার চেষ্টা করা তাই ভালো।

এছাড়াও আপনি যদি 1TB (১ টিবি) হার্ড ডিস্ক কিনতে চান। সেই টাকা টে 500 GB এর SSD কিনলেও ভালো হয়।


7. ব্যাটারি ব্যাকআপ

ল্যাপটপ কেনার মানেই হলো যাতে আমরা এখানে ওখানে নিয়ে ঘুরতে পারি। যেকোনো জায়গাতে বসে ল্যাপটপ ব্যাবহার করতে পারি।

কিন্তুু যদি চার্জ না থাকে তাহলে আপনি কোনো কাজই করতে পারবেন না।

কিংবা full চার্জ দেওয়ার পর ব্যাবহার করার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাটারি শেষ হয়ে যাচ্ছে। এরকম হলে আপনি অন জায়গাতে গিয়ে ল্যাপটপ বেশি সময় ধরে ব্যাবহার করতে পারবেন না।

তাই ব্যাটারি ব্যাকআপ অর্থাৎ ব্যাটারি যেনো অনেক সময় ধরে ল্যাপটপ কে চালিয়ে রাখতে সক্ষম। এরকম কোনো ল্যাপটপ কেনো উচিত।


8. অপারেটিং সিস্টেম

বেশিরভাগ সময় উইন্ডোজ ল্যাপটপ কেনার সময় ল্যাপটপের মধ্যে উইন্ডোজ অরিজিনাল অপারেটিং সিস্টেম নাও থাকতে পারে তাই কেনার আগে দেখে নেয়া উচিত অপারেটিং সিস্টেমটি অরিজিনাল কিনা।

এবং যদি অরিজিনাল না হয় তাহলে আপনি উইন্ডোজের জন্য যে এক্সট্রা টাকা নিচ্ছে সেই পরিমাণ টাকা কম করতে পারেন।


9. ওজন

ল্যাপটপ এর ওজন যদি কম হয় তাহলে এখানে ওখানে যাওয়ার সময় একটু হালকা মনে হবে। যা একটু ভালো।


10. সঠিক দাম

ল্যাপটপের সঠিক দাম জানার জন্য আপনি অনলাইনে চেক করতে পারেন অথবা অন্যান্য দোকানে ঘুরে আপনি দাম টি জানতে পারবেন।

এছাড়া আপনি যদি অনলাইনে কিনতে চান তাহলে অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মধ্যে দাম প্রথমে চেক করে নিয়ে কিনতে পারেন।


11. অন্যান্য কারণ

এছাড়াও heating issue( ল্যাপটপ খুব বেশি গরম হচ্ছে কিনা). ক্যামেরা ভালো কিনা, ল্যাপটপ কত সময়ের মধ্যে full চার্জ হতে সক্ষম। এগুলো জেনে নেওয়া উচিত।


উপসংহার:

উপরোক্ত বিষয় গুলি আপনি জেনে নিলে ল্যাপটপ কেনার আগে আপনি এগুলো চেক করতে পারেন।

আপনি যদি স্কুল স্টুডেন্ট ফোন কিংবা অফিসের ছোটখাট কাজের জন্য ল্যাপটপ কেনেন তাহলে বেশি ফাস্ট এবং দামি ল্যাপটপ নেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

যদি আপনি কম্পিউটারে কোন প্রফেশনাল কাজ করেন এমন গ্রাফিক্স ডিজাইনিং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং ভিডিও এডিটিং এন্ড রেন্ডারিং ইত্যাদি ইত্যাদি এইসব কাজ করেন তাহলে আপনার জন্য যথেষ্ট দামি ল্যাপটপ লাগবে।

না হলে কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে হ্যাং হতে পারে ল্যাপটপটি।

শেয়ার করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *